You are currently viewing গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কিভাবে একটি প্রমিজিং ক্যারিয়ার গড়বেন?

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কিভাবে একটি প্রমিজিং ক্যারিয়ার গড়বেন?

অনেকেই আপনাকে বলে আপনার ড্রয়িং এর হাত অনেক ভালো, আপনি অনেক সৃজনশীল।  আপনার মধ্যে অনেক সৃষ্টিশীলতা আছে, আপনি ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারবেন। ভালো ড্রয়িং করা বা ইলাস্ট্রেশন করা এটা মানুষের শখ হতে পারে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন কিভাবে আপনার এই শখকে ক্যারিয়ার এ পরিণত করবেন? বিষয়টি যদি ইন্টারেস্টিং হয় তাহলে পড়তে থাকুন–

আপনি যদি গ্রাফিক ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার গড়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে এবার আপনার প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং যোগ্যতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে পারেন। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে গ্রাফিক ডিজাইন আপনি কিভাবে শেখা শুরু করবেন?

ইন্ডাস্ট্রিতে যেমন প্রচুর প্রতিযোগিতা রয়েছে, তেমনি ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্র ও সম্ভাবনা অনেক বেশি।

গ্রাফিক্স ডিজাইনারগণ কি কি কাজ করে থাকেন?

গ্রাফিক্স ডিজাইনার

গ্রাফিক্স ডিজাইনারগণ সাধারণত ভিজুয়াল কনসেপ্টকে বিভিন্ন টুলস এর মাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট করে থাকেন। বাস্তবধর্মী আর্ট এর সাথে বিভিন্ন ভিজুয়াল এলিমেন্টস যেমন- ইমেজ, টেক্সট ও গ্রাফিকস ব্যাবহার করে আইডিয়া ও ইনফরমেশনকে যথাযোগ্য করে তোলেন। 

ক্লায়েন্ট ও কনজ্যুমার এর সাথে মিটিং করে থাকেন কাজের পরিধি বুজে নেওয়াও গ্রাফিক্স ডিজাইনারগণ এর বড় একটি দায়িত্ব। শুধু তাই নয় তারা অন্য ডিজাইনারদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি মার্কেটার, বিজনেস এনালিস্ট, কনটেন্ট রাইটার ও প্রোগ্রামারদের সাথে মার্জ হয়ে কাজ করে থাকেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে কিভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলবেন?

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে চাইলে সবারই উচিত উৎসাহ ও ধৈর্য নিয়ে হার্ড ওয়ার্কিং করে যাওয়া। আমরা এখানে কিছু পয়েন্ট লিস্ট আকারে এখানে তুলে ধরেছি যেগুলো ফলো করে আপনার ক্যারিয়ার বিল্ড আপ করতে পারবেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে পড়াশুনা করুন-

যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই তারাও চাইলে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। তবে ক্যারিয়ার এর শুরুতে যেকোন সার্টিফিকেশন কোর্স অথবা একটি পেশাদার ডিগ্রী নিলে ভালো হয়। এটি আপনার চাকরি খোঁজার বিষয় থেকে শুরু করে ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে আপনি একটি ভাল সাপোর্ট পাবেন যদি এই বিষয়ে একটি সলিড ফাউন্ডেশন ও তাত্ত্বিক জ্ঞান থেকে থাকে। 

যদিও সবার পড়াশোনা করার সময় ও সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। আজকাল অনলাইনে বিভিন্ন প্লাটফর্ম যেমন ইউটিউব থেকে আপনি চাইলে ফ্রীতেও শিখতে পারবেন। আজকাল অনলাইন স্টাডি প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে গ্রাফিক ডিজাইন শেখা বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। এছাড়াও কিছু অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম যেমন Subhe, Coursera, Udemy ইত্যাদি থেকে কোর্স শেষ করে আপনি প্রত্যাশিত ডিগ্রি সহ গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য সার্টিফিকেশন কোর্স করতে পারেন। 

আপনি যদি আপনার চাকরির পাশাপাশি বা পড়াশোনার পাশাপাশি এই কোর্স করার কথা ভাবছেন তাহলে  এই প্ল্যাটফর্মগুলি বেস্ট আপনার জন্য।

দরকারী সফ্টওয়্যারগুলিতে আপনার দক্ষতা বাড়ান

প্রথাগতভাবে অধ্যয়ন না করে ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে ব্যাবহৃত সফটওয়্যারগুলোর উপর দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে আরও সচেষ্ট হন। সফ্টওয়্যার সম্পর্কে ভাল ধারণা না থাকলে আপনি গ্রাফিক ডিজাইনের জগতে পিছিয়ে পারবেন।

বেশিরভাগ চাকরির বিজ্ঞাপনে এটা উল্লেখ করা থাকে যে আপনাকে নির্দিষ্ট ডিজাইনের টুলস বা সফটওয়্যারগুলোতে দক্ষ হতে হবে। যার মধ্যে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত Adobe Photoshop, Adobe Illustrator, InDesign এর মতো সফটওয়্যারগুলো রয়েছে । আপনি নির্দিষ্ট কোর্স গ্রহণ করে বা ইউটিউব টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে গ্রাফিক ডিজাইন সফ্টওয়্যারগুলিতে আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য আপনি যে পদ্ধতিই ব্যবহার করুন না কেন, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও আবশ্যক বিষয়টি হলো আপনি যা শিখেছেন তা প্রয়োগ করা। শেখা এক জিনিস, কিন্তু এর প্রয়োগ ভিন্ন জিনিস ।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে ইন্টার্নশিপ করুন  

শেখা এবং অনুশীলন করা দুটোই ভাল। তবে আপনি এটি বাস্তবে কোথায় ব্যবহার করবেন যদি আপনার কাছে কোনো ক্লায়েন্ট এর প্রজেক্ট না থাকে। সেক্ষেত্রে একটি ভাল ডিজাইন স্টুডিও বা কোনো ইন-হাউস ডিপার্টমেন্টের সাথে যদি আপনি ইন্টার্নশিপ করতে পারেন তাহলে আপনি ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন  পারবেন যা আপনি আপনার ডিজাইন ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি জানতে পারবেন ডিজাইন শিল্প কীভাবে চলে, ক্লায়েন্টদের চাহিদা কি রকম এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা পাবেন। ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের আউটপুট বা ফাইনাল প্রোডাক্শন পর্যন্ত আপনি কিছু এক্সপোজার পাবেন।

ইন্টার্নশিপ করার জন্য আপনি অনলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন চাকুরীর বিজ্ঞাপন থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার জীবনবৃত্তান্ত বা পোর্টফোলিওগুলি বিভিন্ন নিয়োগকারী প্রতিষ্টান এবং পেশাদারদের কাছে পাঠান। মনে রাখবেন, আপনাকে এই ইন্টার্নশিপ থেকে সেরা অভিজ্ঞতা অর্জন  করতে হবে এবং আশা করি তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

প্রফেশনালদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন

ক্যারিয়ারকে সামনে নিয়ে যেতে চাইলে সব সময় এক্সপেরিয়েন্সড কাউকে ফলো করুন বা তার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। সিনিয়র পেশাদারদের  নিকট থেকে পরামর্শ নিন যেটা আপনার ক্যারিয়ার ফলোআপ করবে। তাদেরকে আপনার আগ্রহ সম্পর্কে জানান এবং বোঝান তাদেরকে যে আপনি তাদের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে থাকেন ও আপনি তাকে সম্মান করেন। এই নেটওয়ার্ক ও সম্পর্ক যদি বজায় রাখতে পারেন তাহলে যখনই ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো কাজের সুযোগ আসবে তখন তারা আপনার কোথায় ভাবতে পারে। 

সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার  উপস্থিতি নিশ্চিত করুন 

মনে রাখবেন আপনি একটি ডিজিটাল দুনিয়ায় বাস করছেন। আপনি যখন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার কাজ সম্পর্কে বলেন বা কোনো পোর্টফোলিও প্রকাশ করবেন তখন আপনার সম্পর্কে অনেকেই স্পষ্ট ধারণা পাবেন। আপনার পোর্টফোলিও আপনার ক্যারিয়ারকে একটি নির্দিষ্ট দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এজন্য আপনি টুইটার, ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক পেজগুলিতে আপনার কাজের প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন কাজ প্রদর্শন করুন। সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও অনলাইন পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট যেমন Behance, dribble, Wix, adobe portfolio ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন।

সাইড ইনকাম হিসেবে ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক করুন-

আপনার সৃষ্টিশীলতা সম্পর্কে কাজে লাগিয়ে আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করতে পারেন। প্রজেক্ট আকারে আপনার কাজের ফাইল যেমন- এডিটোরিয়াল ডিজাইন, লোগো ডিজাইনিং, সোশ্যাল মিডিয়া ডিজাইন, ই-বুক ডিজাইন এই ধরনের কাজ ক্লায়েন্টের সাথে শেয়ার করুন। নিজের উপস্থাপনায় সবসময় আত্মবিশ্বাসী এবং সাহসী হোন এবং ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করুন। গ্রাফিক ডিজাইন ইন্ডাস্ট্রিতে  কখনই কাজের অভাব হয় না, তাই আপনার সৃজনশীলতার জায়গা খুঁজে বের করুন এবং সেটাকেই কাজে লাগান।

উপসংহার 

আমরা আশা করছি যে এখন আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা পেয়েছেন এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে কিভাবে ভালো একটি ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন, তার ধাপগুলো ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন। আরও একটি বিষয় হলো যে আপনাকে ভালো একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হবে এবং ক্লায়েন্ট রিকোয়ারমেন্ট প্রপারলি বুঝতে হবে।  

Leave a Reply