You are currently viewing Fiverr গিগ কি? গিগ খোলার সঠিক নিয়ম বা পদ্ধতি জেনে নিন

সঠিক নিয়মে ফাইভারে গিগ তৈরির পদ্ধতি

অনলাইন মার্কেট প্লেসে কাজ পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে যেকোন কাজে পারদর্শী হতে হবে। আপনি আপনার দক্ষতা অনুযায়ী আপনার পছন্দের ক্যাটাগরী নির্ধারন করার পর আপনার স্কিলসেট  অনুযায়ী বায়ারকে আপনি কি সার্ভিস দিবেন সেটাকেই ফাইভারে গিগ বলা হয়ে থাকে। নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করুন এমনভাবে যেন আপনি বায়ার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। ফাইভারে সুন্দর একটি গিগ দেয়ার সঠিকগুলো নিচের স্টেপগুলো থেকে জেনে নিন। 

প্রথম ধাপ

গিগ তৈরির শুরুতে ওভারভিউ বিভাগে প্রথমেই আপনাকে গিগের একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম বা টাইটেল দিতে হবে। ফাইভারে সাধারণত ‘I will’ এই শব্দটি ফিক্স থাকে যেখান থেকে গিগ এর টাইটেল লিখা শুরু হয়। অর্থাৎ আপনি যখন গিগ সাজাতে সাজাতে যাবেন ‘I will’ শব্দটির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সামঞ্জস্য বাক্য দিয়ে গিগ এর টাইটেল শেষ করতে হবে। যেমন আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনার হন, তাহলে আপনি গিগটি এভাবে লিখতে পারেন যেমন ‘I will create a Responsive Web Design Template for your company’

 

এরপর গিগটির জন্য ক্যাটাগরি, সাব-ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। সার্ভিস বিভাগে আপনি কোন ধরনের সেবা দিতে প্রস্তুত তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর গিগ মেটাডেটা বিভাগে গিগ-এর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ অপশনগুলো নির্বাচন করতে হবে। এবার আপনার গিগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ৬টি ট্যাগ দিতে হবে। তবে ট্যাগ আপনি ২০ অক্ষরের বেশি দিতে পারবেন না।  প্রয়োজনে আপনি যে ধরনের গিগ তৈরি করবেন, সে ধরনের গিগ নিয়ে একটু রিসার্চ করতে পারেন। তবে কারও গিগ কখনোই কপি করতে যাবেন না কারণ এতে করে আপনার অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপ

প্রাইসিং বিভাগে আপনাকে গিগের জন্য একটি প্যাকেজ বানাতে হবে যেখানে আপনি ৩টি অফার তৈরি করতে পারবেন, তবে আপনি চাইলে একটি প্যাকেজও বানাতে পারেন। সাধারণত গিগের জন্য তিনটি প্যাকেজ থাকাই উত্তম। প্যাকেজ তৈরির জন্য প্রত্যেকটির আলাদা আলাদা নাম, ক্লায়েন্টকে আপনি কি ধরণের সেবা দিবেন তা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও পাশাপাশি কোন প্যাকেজের জন্য কত দিন সময় লাগবে তা উল্লেখ করে দিতে হবে । প্রতিটি প্যাকেজের নিচে বেশ কিছু অপশন থাকবে এবং প্যাকেজের জন্য যে যে অপশনগুলো আপনি সার্ভিস হিসেবে দিতে চান তা নির্বাচন করতে হবে। এবার আপনার সার্ভিস প্রাইস এর জন্য আপনি কত টাকা নির্ধারণ করবেন, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে। নিচে আপনি আরো কিছু এক্সট্রা অপশন পাবেন যেমন এক্সট্রা ফাস্ট ডেলিভারি।  প্যাকেজগুলোর সাথে অতিরিক্ত সেবা হিসেবে এক্সট্রা সার্ভিস অপশনে সহায়ক সেবাগুলোর নাম লিখে সেভ করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে । 

তৃতীয় ধাপ

এবার ডেসক্রিপশন বিভাগে আপনাকে ডিটেইলস কাজ করতে হবে। বিশেষ করে আপনার গিগ তৈরির উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে লিখতে হবে। যেমন আপনার গিগটি কোন কাজের জন্য উপযুক্ত, ক্লায়েন্ট কোন ধরনের সহায়তা পেতে পারে, কত দিনের মধ্যে সার্ভিস পাবেন, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। নিচে একটি অপসন পাবেন যেখানে ক্লায়েন্ট এর জন্য প্রশ্ন নির্ধারণ করে দিতে হবে এবং সেগুলোর উত্তর লিখতে হবে। সর্বোচ্চ ১০টি প্রশ্নের উত্তর এ বিভাগে যুক্ত করে দেওয়া যাবে।

চতুর্থ ধাপ

রিকোয়ারমেন্ট বিভাগে গিগ ক্লায়েন্ট অর্ডার করলে আপনার যে ধরনের তথ্য বা সোর্স দরকার হবে, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। যেমন কোনো ক্লায়েন্ট যদি ডিজিটাল মার্কেটিং এর গিগ কেনেন, তাহলে আপনাকে তার মার্কেটিং চ্যানেল এর এক্সেস আপনার লাগবে। কারণ, এসব পরিপূর্ণ তথ্য ছাড়া আপনি নির্দিষ্ট সময়ে তার কাজ আপনি ডেলিভারি করতে পারবেন না। রিকোয়ারমেন্ট বিভাগের বিষয়গুলো অবশ্যই ক্লায়েন্ট এর পার্ট থেকে প্রোভাইড করতে হবে, কোনো ক্লায়েন্ট তথ্য সরবরাহ করতে রাজি না হলে আপনার গিগ অর্ডার করতে পারবে না।

পঞ্চম ধাপ

ইমেজ গ্যালারি বিভাগে আপনার গিগ বা সার্ভিস এর জন্য আপনি একটি ভিডিও ও তিনটি ছবি সংযুক্ত করতে পারবেন। ছবিগুলো এমন হতে হবে, যেন সেগুলো দেখেই ক্লায়েন্টরা আপনার সার্ভিস সম্পর্কে ভালো ধারণা পেতে পারেন। ছবিতে গিগের মূল তথ্যগুলো টেক্সট আকারে লেখার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক ছবি বা আইকন ব্যবহার করতে পারেন। গিগ এর জন্য ইমেজগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই চেষ্টা করবেন গিগ এ ইমেজগুলোর মান যেন খুব ভালো মানের হয়। সেলারদের গিগ ইমেজের ফাইবার এর নির্দেশনা মোতাবেক অনুযায়ী কাজ করতে পারেন।

এছাড়াও গ্যালারি বিভাগের নিচে আপনি দুটি পিডিএফ ডকুমেন্ট যুক্ত করতে পারবেন। এখানে আপনার বিভিন্ন কাজ অথবা পোর্টফোলিও এর জন্য আপনি দুটি পিডিএফ যোগ করে দিন এবং গিগ পাবলিশ করুন।

Leave a Reply